সম্পাদকীয়--
প্রকৃতি রং বদলায়--মানুষের মনও বুঝি একই ভাবে রূপান্তরিত হয় l বয়স বিভাজনের সঙ্গে সঙ্গে ঋতুচক্রের ধারা পরিবর্তন জীবনের ধারার সঙ্গে মিলে মিশে যায় l পরিবর্তিত বয়সের, রূপ ধারা যেন অন্যরকম, সমস্ত সংযমের মধ্যে থেকে কখনো মনের বাগানের কোণে একটা ফুল ফুটে ওঠে, অলালায়িত, অবহেলিত, সে ফুল কবে যে ধুলোয় মিশে যায় সে খোঁজ বুঝি কেউ রাখে না l
পৃথিবীর বুকে সব স্মৃতিচিহ্ন ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই সচেষ্ট থাকেন l মনের অজান্তে সৃষ্টির বৈঠা চলে, মাঝ গাঙের রুপালি মাছটা আলতো ধরে রাখা থাকে মনে l এই মন, এই দেহ, ভ্যানিশ পদার্থের এক মিউজিশিয়ানের সৃষ্টি বলে মনে হয় l এই চমক আবার গোধূলি শেষের ধূসর বেলার ছাই বর্ণ হয়ে মনকে বিষাদময় করে তোলে l
সৃষ্টি কোথাও থেমে নেই, আমি নেই, তুমি নেই, অথচ আছির মধ্যে দিয়ে বয়ে যাচ্ছি আমরা l আজের ভাবনাগুলোর এক এক টুকরো নিয়ে তোমরা না হয় আগামী নব্য পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিও l আমাদের আজের গল্প কবিতা লেখনী সৃষ্টির কুচি কুচি পাতা নষ্ট বিবর্ণ ফাগুনের ধ্বংসাবশেষ থেকে তাকে না হয় তুলে নিও l সব কিছু না হয় ধোপদুরস্ত করে জুড়ে নিও আবার l
ক্ষরিত বালির জটলায় কংক্রিট জীবনের গাঁথুনিতে একটা অর্ধ মানুষের কষ্ট কষ্টিপাথর, সে ফসিল খুলে পড়ে নিও l তার বুক খুলে আশ্বিনের নবান্নর ছোঁয়া, গোধূলির বধুটির পেট চিরে সূর্যাস্তের সে সব খেলার খেয়াল জুড়তে থেকো, সে সব ক্ষয়িত ভাষা, সে সব পতিত সংলাপ, সে সব দৌরাত্ম্য পতনের পরিণতিগুলি সব ভাঙাচোরা থেকে আবার তৈরি হবে সৃষ্টির কলম, আকাশের কাগজে তোমায় দেবো প্রেমপত্র, আলতো ছোঁয়াগুলি প্রেমিকার বুকে তোলপাড় তুলে আবার আসুক না ফিরে তোমার কাছে l
এবার রাখি ভাব-ভাষার পাগলামি l
আসুন সৃষ্টির কলমে কতটুকু এগুলো আমাদের বর্ণালোক ? কতটা ভাব ভাবনা পাঠকের মন কেড়ে নিতে পারল? ভালো-মন্দের টানাপোড়েনে কতটা উদ্ভিন্ন কাহিনী আমাদের জীবনে শান্ত অশান্ত বিভ্রান্ত বিকৃতি এনে দিল? মনের মাঝে,
ভাষার দৃষ্টিকোণে, শৈলীর বিভাজনে, সৃষ্টির পরিপাটি নৈপুণ্যে কোন কোন লেখক খুলে দিতে পারলেন পাঠককুলের মনের দরজা?
পাঠকবর্গের প্রতি আমার সনির্বন্ধ অনুরোধ, আপনারা বর্ণালোক পড়ুন l বর্ণ, মাধুর্য মেতে উঠুন l আপনারা ভুল-ত্রুটিতে সোচ্চারিত হোন, ভালোকে ভালো, মন্দকে মন্দ বলে পথ প্রদর্শন করুন l এতেই আমরা ঋদ্ধ হবো l ধন্যবাদান্তে--সম্পাদক--তাপসকিরণ রায় l
সহ:সম্পাদকের কলমে--
কিছু শারীরিক অসুস্থতার জন্য এবার আমার লেখা দেওয়া হলো না। আবার সব সংখ্যায় আমি লিখব সেটাও হয় না। আপনাদের লেখায় সম্বৃদ্ধ হয়ে উঠছে পত্রিকা দিনকে দিন।--শমিত কর্মকার।
সহ সম্পাদকের কলমে--
হেমন্ত আসে ফসলের ডালি নিয়ে। হেমন্তে ফসল কেটে ঘরে তোলার পালা। ধূসর হেমন্তের দিনে তাই ভরে যায় চাষির ধানের গোলা। গোলা ভরা ধানের দিকে তাকিয়ে আনন্দে মেতে ওঠে মানুষের মন। আকাশ বাতাস সুরভিত নবান্নের সৌরভে,গ্রামের মানুষের মন আমোদিত নূতন ধান, দুধ ,গুড় ,আদা, ফল-ফুলুরি দিয়ে পূজো আর উৎসবের অব্যাহত আমন্ত্রণে।সকলের জন্য রইল শুভেচ্ছা।পাকা ধানের সোনালী রঙের আবহে সবাইমেতে উঠুক নবান্নের সৌরভে। আমরাও নাহয় ততক্ষণে মেতে উঠি সুন্দর সুন্দর অণুগল্পের সৌরভে।-- সাবিত্রী দাস l
No comments:
Post a Comment