বহ্নিশিখা
ইচ্ছা করতাছে চিৎকার কইরা কাঁন্দি। পথে বইসাই একঘন্টা ফুরায়া গেলো। এহন বেলা দশটা বাজে।একটা'র আগে ঘর থেইক্কা না বারাইলে কি কইরা দুইটার আগে এইহানে পৌঁছাই?মরার মানুষ বেবাক্ তা রাস্তাত আইয়া পড়ছে।আজাইর্যা যত্ত যানজট!
তাড়াতাড়ি যাইবার লাগি রিকশা লইলাম বেহুদা পঞ্চাশ টা টেহা গেলো দেরিও অইলো কোনসুম যাইতাম?
কোনসুম ঘরদুয়ার পরিস্কার করতাম কাডা-বাডা করতাম,রানতাম,খাওয়াইতাম,
রোগীর পথ্য বানাইতাম, রাইতের রুডি বানাইতাম। উফ; জীবনডা এক্কেবারে ছানাছানা হইয়া গেলো।তাও হালার হউরবাড়ির মাইনষের মন পাইলাম না।
গুষ্ঠিসুদ্ধা আইক্কাবাঁশ লইয়া খাড়া থাহে।
পানেত্তে চুন খইস্যা গেলেই অইল। আমার জামাই!! হেইডা আর একটা একটা বিশ্ব শয়তান, হেই আমার কষ্ট বুঝে না। অন্যেরা কি বুঝবো?খাড়া,আমিও জয়নব। অইলে জয় নাইলে ক্ষয়। বেশি দিন নিমু না।
নাগরিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে বিশেষ করে স্কুল কলেজ হসপিটাল, বাজার এলাকায় প্রচন্ড ভিড় লেগেই থাকে,এছাড়াও চালকদের মুখে মাংগির পুত, পুংগীর পোংগা পোন্ডা বালটা হাওয়্যাটা এসব খিস্তি খেউর শুনতে শুনতে বমি আসে,কান দিয়ে ধোয়া বেরোয়, এ পরিস্থিতিতে শুধু জয়নব নয় যে কারোরই পথে জীবন বিষিয়ে উঠতে বাধ্য।
এরমধ্যেই জয়নব বাসায় ফিরে ফ্রিজে রাখা খিচুরি গরম করে সকালের নাস্তা দিল বাপ ছেলে-মেয়েকে। নিজেও খেয়ে দুপুরের রান্না চড়িয়ে দিলো। দুই আড়াইমাস ধরে এক টানা সারারাত রোগীর সাথে থাকতে থাকতে না খাওয়া না ঘুমে জয়নবের মেজাজটাও হয়েছে তিরিক্ষি ধরনের।
আদর আহ্লাদ দিতে পেতে কোনটাই ভালো লাগে না।যেনো মেকি লাগে সবকিছু।
এরমধ্যেই সাজুর ফোন। উঠল।জয়নব ফোন নিয়ে রান্নাঘরে যেতে যেতে বল্ল ,,
-হ্যালো,কও কিতা কইবা,,
-মেজাজ চড়া কেরে?
- বুঝনা কেরে? তুমি ফ্যানের নিচে।আমি ত চুলার পাড়-অ।
-আইচ্ছা।মা চড়া।ফোন করছে।
- কি কয়?
- জইন্যা কি আত্তি ঘোড়া রান্দে অহন-অ
আয়ে না খাওন লইয়া। খিদা লাগছে কোন সম-অ।
-একটা বাজে। অইয়া গেছে প্রায়। স্যুপটা অইলেই বাইর অমো। অত তাড়াতাড়ি খাইতে পারতাম না। না খাইয়াই যাইমু।
-থাউক পড়ে যাও। আমি দিয়া আয়ি।
-তাইলে যাও।
ডায়াবেটিস রোগীদের এই একটা যন্ত্রণা,বেশি খেতে পারবে না আবার সবতাই খেতে হবে। খাবার শেষ করতে না করতে আবার ক্ষিধে লেগে যাবে।তারসাথে যদি হাই- অথবা লো- প্রেশার থাকে তাহলে তো কথাই নেই। রোটিনে উনিশ বিশ হলে খালি কাপে মিছেমিছি চা খাবে।খালি আঙুলে সিগারেট খাবে। যথার্থ নিয়ন্ত্রণ না হলে ভুগতে হয়।
একটু পরেই সাজু এসে পড়লে জয়নব বল্ল
--রাইতে তোমরা রুডি কিন্যা খাইও।বানাইতে পারছি না।আমিও একলগে যাইগা। খাওয়াইব কেডা?তুমি পারতা না। তিন ছেদাবেদা করবা পরে হেইলার রাগ উডবো।তোমার ইস্কুটার আনছ?
-- না।
ভালা করছ।আইট্টা তাড়াতাড়ি কেমনে যায়াম?
--যে যানজট লাগছে স্কুটার যাইতো না,
-- সোহেলের বাইক আনছি উইঠ্যা বও।
শক্ত কইর্যা ধইর্যো।
--খায়া কাম নাই। তিন বেলার সংসার লইয়া কেমতে বইমু?যে জোড়ে চালাও ডর লাগে।
--আস্তেই চালাইমু, ডর কি।চিপাচোপা দিয়া তাড়াতাড়ি যাওন যাইব।
সাজু আর জয়নব সোয়া একটার মধ্যেই হসপিটালে পৌছে গেলো।সাজুু বলল,তে আমি যাই গা।
- হ, যাইবাইত্ত।
জয়নব কিছু বলতে ইতস্তত করে,রাগও হয় দুঃখও লাগে তার। বলতে ইচ্ছা করে না। সাজুর মনে কোথাও সে নাই ভেবে কষ্ট পায়।
সাজু বলে,কিছু কইবা নাকি?
-হ।প্রত্তিদিন ভিক্ষা চাইয়াম পরে গুইন্যা গুইন্যা কয়ডা টেহা দিবা। পরে খাইয়াম, রিকশাত উডবাম।
-- হেইডা ত কইবা।
-- কেরে কইতাম? বেবাকতা মনে থাহে।আমারও যে কিছু লাগে হেইডা ভুইল্যা যাইতে খুব ভাল্লাগে। কিছু টেহা বাইচ্যা যায় শয়তান।আমার বেলায় কিচ্ছু মনে থাহে না তর।
যা,কাম যা, আমার টেহাটুহা কিচ্ছু লাগতো না। না খাইয়া থাকতাম।
এ কথা বলে হন হন করে দোতলায় উঠে গেল। সাজু চেয়ে রইল।
---------
No comments:
Post a Comment