Saturday, 4 December 2021

অদ্ভূত দেশ--অলভ্য ঘোষ

অদ্ভূত দেশ 
অলভ্য ঘোষ

আমাদের বাড়ির পাশে শাঙ্কুদা দের বাড়িটা পুরনো জমিদার দের নাচ মহল ছিল একদা।আমি কোনদিন এই বাড়ির ভেতরে ঢুকিনি।তবে এই বিশাল বাড়ি বাড়ি সংলগ্ন সাজানো গোছানো বাগান টি নিয়ে আমার জল্পনা কল্পনার শেষ ছিল না।জনশ্রুতি রয়েছে রাতের বেলায় এই বাড়িতে এখনো ছম ছম ঘুঙুরের আওয়াজ শোনা যায়।আমরা কান পেতে থাকতাম সেই ঘুঙুরের আওয়াজ শুনব বলে।শুধু কি তাই।স্কুলের জানালা দিয়ে দেখতে পেতাম শাঙ্কু দাদের বাগানে একটি রঙ্গিন কাঠঠোকরা পাখি গাছের ডালে বড় একটি গর্ত নির্মাণ করেছে।এই গর্তের ভেতর থেক আমার কল্পনা অনায়াসে প্রবেশ করে যেত মাটির তলায় এক রূপকথার দেশে।যেখানে একটি বড় সমুদ্র আছে আছে নানা রঙের প্রজাপতি।সত্যিকারের সমুদ্র কাকে বলে আমি তা তখনো স চক্ষে দেখিনি।অথচ কল্পনায় কত শত পাহাড় সমুদ্রে ঘুরে ফেলেছি।কল্পনার অসীম ক্ষমতা।সে দেশে জ্যাম জট নেই; নেই বড় বড়  ইমারত কিংবা আকাশের দিকে তাক করে থাকা তোপের মত বড় বড় কারখানার চিমনি।আছে একটা বাঁশিওয়ালা।যার বাঁশির সুরে মানুষ কাঁদে হাসে ভালোবাসে।সুরের এমন জাদু নানা অনুভূতি মানুষের মধ্যে জাগ্রত করতে পারে।সুরের যে ভাষা তা ইউনিভার্সাল সার্বজনীন সে ভাষা বুঝতে স্কুল কলেজে যেতে লাগে না।সেখানে না আছে স্কুল কলেজ না আছে পড়াশোনার বালাই।আছে অনেক মাঠ ঘাট জঙ্গল।আছে অনেক প্রকার ফল ফুল পশু পাখি।মাঠে মাঠে সারাদিন টোটো করে ঘুরে বেড়াও।ফলমূল খেয়ে থাকো।বড় ওই শাঙ্কু দাদের মোটা গাছটার কাণ্ডের গায়ে কাঠঠোকরার তৈরি করা গর্তটার মধ্য দিয়ে গলে বন্ধুরা  অনেকেই আমার সাথে যেতে চায় মাটির তলার সেই অদ্ভূত দেশে।অত ছোট গর্ত দিয়ে একসাথে সবাই তো প্রবেশ করা যাবে না।আমি কথা দিই একে একে সকল কে নিয়ে যাব সেই দেশে।বন্ধুরা উৎসাহ নিয়ে থাকে তারপর কত গরমের ছুটি পুজোর ছুটি শীতের ছুটি চলে গিয়েছে।আমাদের যাওয়া হয়নি সেই দেশে!যেখানে পড়াশোনার ভাষা শিক্ষার বালাই নেই ।বরং উল্টো দেশে আমরা প্রবেশ করেছি।যেখানে পড়াশোনা ছাড়া এক পাও চলা যাবে না।যেখানে একাধিক ভাষা শিখেও মনের ভাব প্রকাশ করা যাবে না।আজো আমি সেই বাঁশিওয়ালা কে খুঁজে ফিরছি যার বাঁশিতে যাদু আছে।তাকে খুঁজে পেলে আমি তার পিছু নেব হয়তো বা সে হারিয়ে যাওয়া সেই দেশের ঠিকানায় আমাকে পৌঁছে দিতে পারে ।

1 comment:

প্রাপ্তি--অদিতি ঘটক

প্রাপ্তি অদিতি ঘটক কেসটা সাজাতে গিয়ে বারবার তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে, অথচ হাতে সময় খুব কম। তাড়াতাড়ি এফ. আই. আর. এর খসড়াটা  তৈরি করতে হবে। পরমার্...