Saturday, 4 December 2021

অদ্ভূত আঁধার এক...শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার




অদ্ভূত আঁধার এক....
*******************
শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার 

দু'ঘন্টার ওপর এখন কারেন্ট নেই। রাতের খাবারটা ঢাকা আছে টেবিলের একপাশে। ওটা আর বোধহয় আর কাজে লাগবেনা। একটা দেশী মদের বোতল শেষ হয়ে গিয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে, ছড়িয়ে আছে ছোলা বাদামের খোসা, একটা কাঁপাকাঁপা শিখায় জ্বলছে মোমবাতিটা।

কাল ভোরেই হয়তো একশো কোটি'র ওপর আর একটি নতুন শিশুর জন্ম হয়ে সেই সংখ‍্যাটা  বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু ওই সদ‍্যোজাত শিশুটি হবে জারজ ও মানসিক ভারসাম‍্যহীন এক মানবীর গর্ভজাত। জেলখানার হাসপাতালে  জন্মের মুহূর্ত থেকেই অন্ধকার পাপ আর তার নিষ্ঠুর আলিঙ্গন ওকে দিতে চলেছে ঘৃণা আর যৌনতাড়নার নিচ্ছিদ্র শৈত‍্য।

মিতালী 'সন্তান! সন্তান!'  করে খেপে উঠেছিল। ওর স্বামী রূপমকে নিজেই  জোর করে ফার্টিলিটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে দুজনেই টেস্ট করায়। রূপমের অ‍্যাজোস্পার্মিয়া ধরা পড়ায় যতোটা হিংস্র হয়ে উঠেছিল মিতালী, ততোটাই স্বাভাবিক জীবন থেকে গুটিয়ে গিয়েছিল রূপম। 
*********
সেদিন সন্ধেবেলা ছিল ওদের বিবাহবার্ষিকী। সকালে মিতালী ডিনারে নেমন্তন্ন করল ফোন করে। মিতালী ভাল রান্না করে বরাবর। মাটন ভূনা আর পরোটা তার সাথে চিকেন তন্দুরী সহযোগে ব্ল‍্যাক লেবেল। রূপমটা কখনোই  খুব বেশী মদ খেতে পারত না। সেদিন কেন জানি না ও চারটে পেগ নামিয়েই  হাই হয়ে গেল। হঠাৎ মিতালীর নাম ধরে  আমাকে নোংরা খিস্তি করতে লাগল ওর সামনে । মিতালী একবারও কিন্তু ওকে বারণ করতে এল না! আমিও নেশার ঝোঁকে  রেগে গিয়ে টেবিলে রাখা একটা পেতলের ঘন্টা তুলে রূপমের মাথায় দুম্  মেরে বসলাম। দরদর করে রক্ত পড়তে লাগল রূপমের মাথা থেকে। তারপর অবসন্ন হয়ে কৌচে এলিয়ে বসতেই মিতালী দৌড়ে এসে বেডরুম থেকে একটা বালিশ এনে রূপমের মুখে চেপে ধরল। দশটা মিনিট! ব‍্যস্! রক্তাক্ত রূপম তারপর একটা লাশে জাস্ট পরিণত হল। খাওয়াদাওয়া যে আর হলনা, বলাই বাহুল‍্য। 
**************
তারপর....তারপর মিতালী একটা নীচ নোংরা নাটকের যবনিকা পতনের আগের দৃশ‍্যের মত আমাকে হাত ধরে টেনে ওদের বেডরুমে নিয়ে গিয়ে হিংস্র বাঘিনী যেমন করে তার শিকারকে ছিন্নভিন্ন করে ঠিক তেমন করেই পাপ  আর লালসার আঁচড়ে আমার শরীরটাকে ক্ষতবিক্ষত করে  ওর অবদমিত সন্তানকামনা চরিতার্থ করছিল মিতালী.....

********
পুলিশের কাছে যখন মিতালী ধরা দিল তখন ও সম্পূর্ণ মানসিক ভারসাম‍্যহীন। মামলা গড়াতে গড়াতে তিন চার মাসে ওর শাস্তি ওর হলনা ঠিকই কিন্তু প্রেগন‍্যান্সীটা শরীরে ততোক্ষণে স্থিতু  হয়েছে। আমি দেখতে যেতাম জেল হাসপাতালে  দু একবার। নির্বাক, উদাসী মিতালী চুপ করে বড় বড় চোখ মেলে আমায় দেখত আর ওর স্ফীত উদরটা মাঝেমধ‍্যে স্পন্দিত হয়ে আমায় ওই রাতটার কথা মনে করিয়ে দিত।
***********
এখন স্লিপিং পিলের পুরো পাতাটা খালি। দেশী মদ তার উপর আগুন জ্বালাচ্ছে গরলের। রূপমকে আমি খুন করতে চাইনি, কিন্তু তাও আমিও খুনী । আমি কি মিতালীকে আটকাতে পারতাম না? নীল শিফনের ফাঁক দিয়ে মিতালীর ফর্সা ধবধবে  বিভাজিকা কি আমায় পাপের ইন্ধন যোগায় নি একবারও?

 আমি অন্তত আজীবন আমার সন্তানের দিকে যেমন চোখ তুলে তাকানোর সাহস দেখাতে পারবনা তেমনই কখনো ওকে সন্তানের স্বীকৃতি দিয়ে একটা সুস্থ ভব‍্য জীবনও দিতে অপারগ।

তাই আমি আজক‍ের পর থেকে একজন  কাপুরুষ আর ঘৃণ‍্য  খুনের সহযোগকারী হয়ে আর বাঁচতে চাইনা।
 
"কাল মর্গের ২০২ নম্বর ড্রয়ারে রূপম তোর সাথে আর  একবার দেখা হলে, এবারে ক্ষমা করে দিস্ ভাই !" 
******************

No comments:

Post a Comment

প্রাপ্তি--অদিতি ঘটক

প্রাপ্তি অদিতি ঘটক কেসটা সাজাতে গিয়ে বারবার তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে, অথচ হাতে সময় খুব কম। তাড়াতাড়ি এফ. আই. আর. এর খসড়াটা  তৈরি করতে হবে। পরমার্...