Sunday, 5 December 2021

অসিত কুমার পাল--মা ও ছেলের অদ্ভূত ভালোবাসা

অসিত কুমার পাল

মা ও ছেলের অদ্ভূত ভালোবাসা 
****************************

রমা অনেকদিন পরে বাবার বাড়িতে এসেছে ।  অবশ্য কয়েক বছর আগে বাবা মারা গেছে । একমাত্র ভাই রমেশ চাকরী পেয়ে পুনেতে চলে যাওয়ায় মা বাড়িতে একাই থাকে , নিজেই রান্না করে খায় ।

 রমা আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করল তার মা প্রতিদিনই অনেকটা সময় নিয়ে দুপুর বা রাতের খাবার তৈরি করে ।  রোজই নতুন নতুন পদ রান্না করে ।  রান্না শেষ হলে নিজে খাওয়ার আগে  মা খুব যত্ন সহকারে সেদিনের খবরের কাগজের প্রথম পাতার পাশে রান্না করা ভাত বা রুটির ছাড়াও ডাল তরকারি চাটনি ইত্যাদি সাজিয়ে রাখে । তার পরে সেসব খাবারের ছবি তুলে হোয়াটসএপ করে রমেশের কাছে পাঠিয়ে দেয় ।

 কয়েকদিন ধরে একই রুটিন দেখার পরে কৌতুহল বশত রমা জানতে চাইল - মা, রোজ খাওয়ার আগে এভাবে ফটো তোলাটা কি তোমার অভ্যাস হয়ে গেছে ?

 মা বলল - আর বলিস না । বেচারা রমেশ তো  চাকরীর জন্য পুনেতে থাকে  । সেখানকার হস্টেলের খাবার নাকি একেবারে অখাদ্য । রমেশই আমাকে  বলেছে - রোজ দুবেলা খাওয়ার আগে আমি যদি ভালো মন্দ খাবারের ছবি তুলে পাঠাই তাহলে সেই ছবি দেখে ওখানকার অখাদ্য খাবারগুলো খেতে  তার  নাকি ভালো লাগবে ।

 রমা অনুযোগ করল - মা, তুমি ওকে আদর দিয়ে বাঁদর করে তুলেছ । ও এখন বড়ো হয়ে গেছে ,   তবুও বাচ্চাদের মত তোমার কাছে আবদার করে চলেছে । তুমি ওর কথায় কান দাও কেন ? মা কিছু না বলে একটুখানি হাসল ।

রমা একটু পরে রমেশকে  ফোন করে অভিযোগ করল -   ভাই তুই, মাকে এত খাটাচ্ছিস কেন ?  তোর আবদার রাখতে মাকে রোজ  নতুন নতুন রান্না করতে হচ্ছে, ছবি তুলে হোয়াটসএপ করতে হচ্ছে । ওত দূরে থেকেও মাকে না জ্বালালে তোর  কি খাবার হজম হয়  না ?

 রমেশ  খানিকটা হেসে নিল । তারপরে বলল - নারে দিদি, এমন কোন কথা নয় । আমি  মাকে জ্বালাচ্ছি না ।
আসলে  বাবার মৃত্যু, তোর বিয়ে আর আমি চাকরী নিয়ে পুনেতে চলে আসার পরে মা খুব একা হয়ে গেছে ।

 গতবার যখন বাড়িতে গিয়েছিলাম, তখন কাজের মাসিমা বলল মা প্রায় দিনই কিছু রান্না করে না । হয়তো চায়ের সঙ্গে পাউরুটি খেয়ে নেয় নয়তো শুধুই খিচুড়ি । সারা দিন চুপ চাপ বসে থাকে ।

 মা যাতে রোজ রান্না করে , সেজন্যই আমি এই মতলব বের করেছি । আমাকে ফটো পাঠানোর জন্যই মা রোজ নিত্য নতুন রান্না করে । আর খেয়েও নেয় । আর রান্নাতে ব্যস্ত থাকে বলে মা ততটা নিঃসঙ্গতাও অনুভব করে না ।

ভায়ের জবাব শুনে রমার চোখ জলে ভরে গেল । সে রুদ্ধকন্ঠে বলতে পারল - ভাই,  যতটা ভেবেছিলাম তুই তার থেকেও অনেক বড় হয়ে গেছিস । তোর মত সবাই এমন করে মায়ের কথা ভাবতে পারে না ।

------------_------------

1 comment:

প্রাপ্তি--অদিতি ঘটক

প্রাপ্তি অদিতি ঘটক কেসটা সাজাতে গিয়ে বারবার তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে, অথচ হাতে সময় খুব কম। তাড়াতাড়ি এফ. আই. আর. এর খসড়াটা  তৈরি করতে হবে। পরমার্...