প্রেরণা বড়াল
পঞ্চাশ পরিবারের ছোট একটা গ্রাম নাম কাঁকন পাড়া। গ্রামে একটা প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে।দুই কিলোমিটারের মধ্যে বড় শহর। সেখানে স্কুল কলেজ সবই আছে।তাই গ্রামের ছেলে মেয়েরা প্রাথমিক শেষ করে ওখানেই পড়াশোনা করতে যায়।পলাশের ইস্কুলে যেতে আসতে পলিকে ভাল লাগে। আর লাগবে নাই বা কেন। পলি মেয়েটি ছিল এমনি। সবাই তাকে ভাল না বলে পারত না। গ্রামে মেয়েদের ভীতর ও ছিল সব থেকে সুন্দর ,দেখতে- কাজে কর্মে এবং ব্যাবহারে।ছেলে মেয়েরা এক সঙ্গে মিলে গল্প,হাসি মজা করতে করতে ইস্কুলে যেত।
ধীরে ধীরে পলিদের ঘরে পলাশের আসা যাওয়া বেড়ে যায়। কাজে কর্মে কথা বার্তায়
পলির মা বাবা ভাইদের কাছে ও বেশ প্রিয় হয়ে ওঠে। পলি বুদ্ধিমতি মেয়ে। ও বুঝতে পারে এ সব পলাশদা ওর জন্যই করছে। তা ছাড়া আচার ব্যবহারে পলাশদা অনেক বার জানিয়ে দিয়েছে যে ওকে ভালবাসে।
সাথের মেয়েরা তো তা নিয়ে অনেক বারই হাসি ঠাট্টা করেছে।পাশের বাড়ির কাকিমা তো একদিন বলেই ফেললেন।"কিরে পলাশ তোর মতলবটা কি।"
যাইহোক পড়া শেষে চাকরি পেয়ে পলাশ অন্য যায়গায় চলে যায়। ফোন করেছে অনেক বার পলির কাছে। ওর মন ও পলাশের দিকে ছুটতে শুরু করেছিল বোধহয়।তা না হলে বেশ অনেক দিন পলাশের ফোন না পেয়ে ওর মনে কষ্ট হচ্ছিল। পলাশের কথা ওর খুব মনে পড়ে।ঠিক তখনই পলির বাবা ওর বিয়ে ঠিক করে এক জন IPS অফিসারের সংগে। পলি কি করবে বুঝতে পারছিল না। এক বার ভাবল পলাশদাকে বলবে। কিন্ত ও তো কোন দিনও পলাশদাকে ফোন করেনি।ফোন করে ও কি বলবে ভাবতেই লজ্জা পায় পলি।এদিকে আশীর্বাদের দিন চলে এল।
বাড়ীতে অনেকেই এসেছে।পলাশ ও এসেছে। পলাশকে দেখে ও আশ্চর্য হল। ওকে তো একদম অন্য রকম লাগছে পলির। এ পলাশদাকে তো ও চেনে না। আগে ওদের বাড়ীতে এলে কোন না কোন অজুহাতে ওর আশেপাশে থাকতে ভালবাসত,কথা বলতে ভালবাসত।কিন্ত এবার একবারও ওর ধারে কাছে এল না। ওর উপর কোন খ্যাল নাই। আশীর্বাদের কিছু সময় পূর্বে পলি যা শুনল তাতেই ওর
পুরোপুরিই মোহ ভঙ্গ হল।পলাশ বলছিল "পারুলদি আমি যেখানে কাজ করি ওখানেই একটা মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছে,ও না পলির থেকেও সুন্দর। আমি ওকে বিয়ে করব।"
পলি জানে যেখানে ভালবাসা আছে সেখানে কোন তুলনা নেই। যারা তুলনা করে তারা ভালবাসতেই পারে না। তারা আসলে কোন কিছুর পেছনে ছুটে বেড়ায়।
No comments:
Post a Comment