জয়িতা ভট্টাচার্য
একটা গ্রামে কিছু মানুষ বাস করত।কেউ কুমোর,কেউ কামার,কেউ চাষী,কেউ ঘরামি। গ্রামের পাশে একটা নদী ছিল আর নদীর ওপারে বন। দু একজন কখনও সখনও ওপারে যেত মধুর লোভে,বন মোরগের মাংসের লোভে।কেউ ফিরে আসত কেউ যেত বাঘের পেটে।
একদিন যখন লাল সূর্যের প্রথম রশ্মিটা দেখা গেল কালচে একটা মানুষের ছায়া পড়ল গ্রামে।সে সেই গ্রামের শেষে একটা কুটির বেঁধে বাস করতে শুরু করল। ওদিকটা ছিল বাদা অঞ্চল কেউ বিশেষ যেতো না।তবুও এক দুজন উঁকি ঝুঁকি দিতে যারা গেল তারা ফিরল না।কোনো খবরই পাওয়া গেল না। গ্রামের সর্দার সাহস করে লাঠি সোঁটা নিয়ে একদিন তার সঙ্গে আলাপ করতে গিয়ে জানল সে জাদুকর।জাদুর বলে সে অনেক কিছুই করতে পারে এমনকি মানুষকে খরগোশ করে দিতে পারে।
গ্রামে মাঝে মধ্যেই মানুষ নিরুদ্দেশ আর খরগোশ আর ছাগল বাড়তে লাগল। লোকের মনে এই প্রথম ভয় হলো। মনের শান্তি নষ্ট হলো।চাষবাস মাথায় উঠল।জাদুকর সেখানের রাজা হয়ে বসল।যা কিছু গ্রামের সম্পদ ছিল সব সে হস্তগত করে নিল। তার বদলে দুবেলা তারা খেতে পেল।গ্রামে আর চাষা নেই, কুমোর নেই ,ঘরামি নেই ,সকলেই তখন বাঁচতে পারলেই শান্তি পাবে যেন। সকলকেই জাদুকর ভিখারি করে দিল। খরগোশ করে দিল,ছাগল করে দিল।তাদের আর কাজ নেই।খিদে পেলে যা দেয় জাদুকর তাতেই তারা খুশি আর সারাদিন ঘুরে বেড়ায়। ওরা ধীরে ধীরে সবাই জাদুকরের মন্ত্রে খরগোশ কিম্বা ছাগল হয়ে গেল।
এরপর মানুষের সন্তান সন্ততি কেবল খরগোশ আর ছাগল হয়ে জন্মায়।জাদুকরের মায়ায় তারা দুবেলা যেটুকু পায় তাতেই সন্তুষ্ট হয়ে যায়। ঋতু পাল্টায়, জন্ম আর মৃত্যু হয়।জাদুকরের শক্তি কমে আসে ,সে বৃদ্ধ হয় কিন্তু কারো আর মনে হয় না জাদুকরকে তাড়িয়ে দেবার কথা, মেরে ফেলার কথা কারন তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ঘাড় হেঁট করে ভিক্ষা করতেই আরাম বোধ করে।তারা যে মানুষ তা একদিন সম্পূর্ণ বিস্মৃত হয়ে যায়।
Symbolic
ReplyDeleteভাল লাগল।
ReplyDelete